আজ শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের শেষ বিদায়ে হাত জোড় করে কী জানালেন চিন্ময়?

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
মায়ের শেষ বিদায়ে হাত জোড় করে কী জানালেন চিন্ময়?

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মায়ের শেষ বিদায়ে পাঁচ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। গাড়ি থেকে নামতেই দুই হাত জোড় করে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ভিডিওতে। চোখেমুখে তখন কান্নার ছাপ। চারপাশে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা। তার দুহাত জোড় করা সেই মুহূর্তে উপস্থিত ভক্ত-অনুসারীদের মধ্যে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। বৃষ্টির মধ্যেও দুই হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে চিন্ময়ের সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ঠিক কী বলতে বা জানাতে চেয়েছিলেন তিনি?

Manual4 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আনা হয় কারাবন্দি চিন্ময়কে। প্রিজনভ্যান থেকে নামার পরই দুই হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে সবাইকে কি জানালেন? এরপর মন্দিরে প্রণাম করে মায়ের মরদেহের কাছে যান। সেখানে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বৃষ্টির মধ্যেই সম্পন্ন হয় মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।

Manual3 Ad Code

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন চিন্ময়ের মা ৭১ বছর বয়সী সন্ধ্যা রাণী ধর। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মারা যান তিনি। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। পরে স্ট্রোক ও হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতাও দেখা দেয়।

মৃত্যুর দুদিন আগে, মঙ্গলবার নিজের শেষ সময়টা পুণ্ডরীক ধামেই কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সন্ধ্যা রাণী। হাসপাতালের পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় ছেলের সঙ্গে সম্পর্কিত এই আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পরিবার।

ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত ছিলেন সন্ধ্যা রাণী। চিন্ময়ের জামিন ও মুক্তির আশায় ছিলেন তিনি। অসুস্থ মাকে শেষবার দেখতে চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তার জীবদ্দশায় সেই সুযোগ হয়নি। মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার চোখের দেখার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ভিডিও বার্তাও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়।

মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান চিন্ময়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে তাকে পুণ্ডরীক ধামে আনা হয়। প্রিজনভ্যানকে ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক গাড়ি। সেখানে ১৪টির বেশি পুলিশ গাড়ি দেখা যায়।

পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে প্রথমে শিব মন্দিরে প্রণাম করেন চিন্ময়। এরপর শ্রীল পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের মন্দির, রাধাকৃষ্ণ মন্দির, কাত্যায়নি মন্দির, শ্রীল প্রভুপাদের মন্দির, গিরি গোবর্ধন মন্দির ও সর্বতীর্থ মৃত্তিকা পরিক্রমা মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে হরিস্নান করেন তিনি।

এরপর মায়ের শেষকৃত্যের জন্য তাকে নেওয়া হয় সমাধিস্থলের দিকে। মায়ের মরদেহের কাছে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা মায়ের পাশে থাকার পর শেষ বিদায় জানিয়ে আবারও কঠোর নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তার বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর, মেজো ভাই অঞ্জন কুমার ধর এবং বোন রুনা ধর। তাদের পারিবারিক শিকড় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের করইয়ানগর এলাকায়। পরে পরিবার চট্টগ্রাম নগরে চলে আসে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের সঙ্গে যুক্ত হন।

চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে করা ওই মামলায় চিন্ময়সহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

Manual2 Ad Code

এরপর ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলায়ও চিন্ময়কে আসামি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ জুন তদন্ত শেষে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। চলতি বছরের মে মাসে ওই হত্যা মামলায় চিন্ময়ের জামিন আবেদন নাকচ করেন হাইকোর্ট।

তবে এ বছর আরও কয়েকটি মামলায় তার জামিন হয়েছে। ১৬ এপ্রিল হাটহাজারীর একটি জমি দখল ও মারধরের মামলায় তিনি জামিন পান। আগস্টে আরও দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন হয়। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা আরও দুই মামলায় হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ অন্য মামলা বিচারাধীন থাকায় এসব জামিনের পরও কারামুক্তি হয়নি তার।

মায়ের কাছে শেষবারের মতো ফিরেছিলেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য। কিন্তু সেই সময়ের শুরুতেই দুই হাত জোড় করে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা চিন্ময়ের কান্নাভেজা মুখের দৃশ্যটি উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি—তার উত্তর অজানা। তবে মাকে শেষ বিদায় জানিয়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আবারও কারাগারের পথে ফিরতে হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে।সুএঃ কালবেলা

Manual7 Ad Code