কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০/১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
মুফতি আমির হামজার সমর্থকদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই এমপির গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এমপির সমর্থকরাই সেখানে গিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষ সৃষ্টি করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করছিলেন। সেখানে এমপির গাড়ি ও সমর্থকরা পৌঁছানোর পর এমপির সমর্থকরা পাল্টা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূরকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকেল সাড?ে পাঁচটায? শহরের ছয?রাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে ক্ষমা চাওয?ার ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষ হওয়ার মুহূর্তে পুলিশ প্রটোকলে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে এমপি আমির হামজার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এমপির গাড়িবহর সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি গাড়ি থেকে লাঠি হাতে কয়েকজন বেরিয়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষই পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে মুহূর্তেই শহরের ছয় রাস্তার মোড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলে। এ সময় এমপির গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনাস্থলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদসহ পুলিশের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে মুফতি আমির হামজা অশালীন কথা বলেছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। সমাপনী বক্তব্য চলাকালে এমপির গাড়িবহর আসে। কয়েকজন জামায়াত কর্মী আমাদের সামনে এসে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। তারাই প্রথমে হামলা করে। পরে আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যরা এমপির গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথমে সমাবেশস্থলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকজন লাঠি হাতে এগিয়ে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এরপর আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। একপক্ষ অন্যপক্ষকে ধাওয়া করে, ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল বলেন, এমপির গাড়ি আসার পরই মূল উত্তেজনা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো ছয় রাস্তার মোড় ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষ নিরাপদ জায়গায় সরে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি সামাদ জানান, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজনকে গণঅধিকার পরিষদের অফিস হামলা চালায?।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।