ভারত-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শেকড় গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অভিন্ন ইতিহাসের এই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্ব ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অংশীদারত্ব এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কই এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত প্রাণস্পন্দন। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আসুন, ভারতের অব্যাহত অগ্রগতি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি। একইসঙ্গে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে হাতে হাত রেখে কাজ করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের অসাধারণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে তুলি।
Manual6 Ad Code
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতীয়দের উদ্দেশে হাইকমিশনার বলেন, আমরা ভারতের জনগণ, আমাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগগুলো ব্যবহার করি এবং ভারতকে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনায় কাজ করি। এটাতেই স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা।
ত্রিবেদী আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, সমাজের এই অংশগ্রহণ এবং সরকারের সহযোগিতায় গ্রামের পর গ্রামে, শহরে শহরে, ভারতের প্রতিটি ঘরে বসবাসকারী সকল মানুষ সুস্থ, সুখী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। আসুন, দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ অনুভূতি নিয়ে আমরা সবাই স্বাধীন ভারতকে একটি বিকশিত ভারত-এ রূপান্তরিত করার জাতীয় স্বাধীনতা সংকল্পে নিজেদের উৎসর্গ করি।
Manual5 Ad Code
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার শতবর্ষ ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সংকল্প হলো—উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শগুলোকে ধারণ করে আমরা অভূতপূর্ব উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছি। বয়ম রাষ্ট্রেই জাগ্রুয়াম—এই বেদবাক্যটি আমাদের প্রেরণা জোগায়, আমরা যেন রাষ্ট্রের বা দেশের পুরোহিত (অগ্রণী বা রক্ষক) হয়ে সর্বদা জাগ্রত ও সচেতন থাকি, যোগ করেন।