আজ রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের পতিত জমি আবাদে এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের পতিত জমি আবাদে এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

Manual4 Ad Code
স্বপন কুমার সিং , নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট অঞ্চলের পতিত ও এক ফসলি জমিকে চাষের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত ফসলের চাষ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগষ্ট)  সিলেট নগরীর একটি হোটেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প -এর কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পানিতে ডুবে থাকে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এসব জমির বড় একটি অংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং সেচ সুবিধা বাড়াতে খাল খনন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পাশাপাশি এলাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কৃষিপ্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন ধরনের ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো অপেক্ষাকৃত শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবতাও যাচাই করা যেতে পারে। স্বল্প সময়ে এ ফসল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ রয়েছে।
এ ধরনের সম্ভাবনাময় ফসলের জন্য পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগামী সপ্তাহে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান এখনো গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও অবকাঠামোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নেওয়া কৃষকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তরমুজ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নতুন ফসলের চাষে যারা উদ্যোগ নিয়েছেন, তারা কৃষির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছেন।
তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিলেটের কৃষিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও লাভজনক করতে হবে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।