বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে চা বাগানগুলোতে
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে চা বাগানগুলোতে
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
Manual3 Ad Code
মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে কাঁচা চাপাতা ট্রাফ হাউজে ওয়েদারিং বা প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জেলার প্রতিটি বাগানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
জেলার চা বাগানগুলো ঘুরে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ ঘণ্টা। বাকি ৯ ঘণ্টা কারখানার জেনারেটর সচল রাখতে জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে জেলার ৯৩টি চা বাগানে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় কাঁচা চা পাতা ট্রাফ হাউজে পড়ে রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি পাতা ফেলে দিতে হচ্ছে বলে বাগানসংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজনগর ইটা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প প্রযুক্তিতে কারখানা চালু করতে এক ঘণ্টা সময় লাগে। এতে সময়ের অপচয় হয় এবং পাতার গুণগত মানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যন্ত্রপাতিরও ক্ষতি হয়। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এ সময় কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
Manual2 Ad Code
একই চা বাগানের প্রধান কারখানা করণিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে কারখানা অচল হয়ে পড়ে। এতে ট্রাফ হাউজে রাখা কাঁচা পাতার ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বাগানগুলোতে হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট হচ্ছে। এগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
Manual5 Ad Code
রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ চা শিল্পের স্পর্শকাতর উপকরণ। যথাসময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যায়ে নিতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। লোডশেডিং হলে খরচ বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং পাতার মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ন্যাশন্যাল টি কোম্পানির ডিজি এম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনই ভুগতে হচ্ছে। এতে চা পাতার অনেক ক্ষতি হয় এবং প্রতিদিনই তাদের চা পাতা নষ্ট হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তবে কম সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন।