সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ অভিযান: র্যাব মহাপরিচালক
সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ অভিযান: র্যাব মহাপরিচালক
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে র্যাবের নেতৃত্বে সারাদেশে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা হতে যাচ্ছে। গত ২৪ এর আন্দোলনে পুলিশসহ সরকারের অন্যান্য বাহিনীর যে অস্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছে- সেটা উদ্ধারে দায়িত্ব পেয়েছে র্যাব।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।
Manual3 Ad Code
এর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ ব্যাপারে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।’
Manual6 Ad Code
অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।
এদিকে র্যাব জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরে রাতে আরও সাতজন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এ নিয়ে আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু হচ্ছে ৫৯ জন। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জলদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন ও মিজান বাহিনীর ৭ জন। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সুন্দরবন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। তবে আশির দশক থেকে এই গহীন সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা ও বনদস্যুতার এক কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নীল সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে কিংবা বনে কাঠ, মধু, গোলপাতা সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে জীবিকার উদ্দেশে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষেরা এই বাহিনীগুলোর অত্যাচার, জিম্মি ও অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছিল। কিন্তু একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর এই ধরনের অন্যায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনীহা এবং হয়রানির ভয়-এসব কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে, ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়া বড় কোনো ব্যাপার নয়।
Manual1 Ad Code
র্যাব মহাপরিচালক জানান, সুন্দরবনে এখনও চার-পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নেওয়া পুনর্বাসন প্যাকেজ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
Manual6 Ad Code
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানির বিষয়টিও সামনে এসেছে।সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি র্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলে জানান তিনি।