আজ মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ডাকাতি, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ডাকাতি, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিন-দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চলন্ত অটোরিকশার যাত্রীদের সর্বস্ব লুটের পর দুপুরে একই স্থানে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ একাধিক পথচারীর ওপর হানা দেয় ডাকাত দল।

ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। প্রকাশ্যে এমন ডাকাতির ঘটনায় সড়কটিতে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

Manual6 Ad Code

ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রথম ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ডাকাত দল গাড়িটির গতি রোধ করে তারেককে জিম্মি করে তার মুঠোফোন ও নগদ টাকাসহ সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে নিজের জীবন বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই লাফ দিয়ে কোনোমতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঠিক একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাতরা। এ সময় ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘মুক্তি’-র ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন পথচারীর পথ আটকে অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, নগদ অর্থসহ সর্বস্ব লুটে নিয়ে দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায় চক্রটি।


ডাকাতদের মারধরে আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

Manual5 Ad Code

ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও বনদস্যু চক্র এই অপকর্ম ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতিমধ্যে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক ও শীত মৌসুমে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ডাকাতদের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে পাহাড়ি কলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচা এবং চকরিয়া ও কক্সবাজার থেকে পাইকারি পণ্য আনার সুবাদে সড়কে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে যাতায়াত বাড়ে, আর সেই সুযোগটিই নেয় অপরাধীরা। তবে এবার শীত পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে লুটপাট শুরু হওয়ায় পাহাড়বেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সড়কে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

Manual1 Ad Code