আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে এক বাসচালকের বাম চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ নির্দেশ দেন। এদিন দুজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসাইন তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
Manual2 Ad Code
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বাদীর বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ সময় মামুনের শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাম চোখ ও মাথায় গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাম চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তাঁর বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মামলার তদন্তে তাঁদের জড়িত থাকার প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
Manual7 Ad Code
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, একই বছরের ১৪ আগস্ট খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।