শ্রীমঙ্গলে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম দুর্গোৎসবে বিদায়ী সুর
শ্রীমঙ্গলে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম দুর্গোৎসবে বিদায়ী সুর
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
Manual2 Ad Code
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের আয়োজনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য,ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীর পূজা-অর্চনা ও যজ্ঞ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে মাস্টারপাড়া পূজামণ্ডপে বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ভক্তরা। দিনভর মণ্ডপে স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বছর মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের দুর্গোৎসব ৪৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে পূজারি, ভক্ত ও এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা গেছে আনন্দ-উৎসাহ হইহুল্লোড়। ঢাকের বাদ্য,কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি,শঙ্খনাদ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসমতের অনুযায়ী,মহানবমী দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের আরাধনার বিশেষ তিথি। এদিন দেবীর কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা,বিশ্বশান্তি এবং মানবকল্যাণ কামনা করে প্রার্থনা করেন ভক্তরা। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ করে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। মহানবমী পুজা শেষে দশমী মা দূর্গার বিদায়ী সুর।
Manual3 Ad Code
মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের সভাপতি তিমির বণিক বলেন,“আমাদের পূজার আয়োজন এবার ৪৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় আমরা দুর্গোৎসব উদ্যাপন করে আসছি। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। আগামী দিনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।”
সাধারণ সম্পাদক অনিক ভট্টাচার্য সাজু বলেন, “মহানবমী উপলক্ষে মন্দিরে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও যজ্ঞসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব আয়োজন করতে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সহ নেয়া হয়। এই উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করি।”
শ্রীমঙ্গলের কৃতী সন্তান ও সমাজসেবক এবং সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কানাডা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো বলেন,“দুর্গোৎসব আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে দেয়। মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানাই। উৎসবের আনন্দ সবার জীবনে শান্তি,সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।”
এদিকে সাংবাদিক ও সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য সত্যজিৎ দাস তাঁর মা সবিতা দাসের নামে দেবী দুর্গার ভোগারতি দিতে মন্দিরে আসেন। এ সময় তিনি বলেন,“মায়ের নামে দেবীর চরণে ভোগারতি নিবেদন আমার কাছে ভক্তি ও শ্রদ্ধার বিশেষ মুহূর্ত। দেবীর কাছে প্রার্থনা করি, আমার মা সুস্থ ও ভালো থাকুন। একই সঙ্গে সবার জীবনে শান্তি,সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হোক। সমাজে সম্প্রীতি,মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হোক।”
Manual4 Ad Code
মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম দুর্গোৎসব আয়োজন ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য,সেচ্ছাসেবী ও সহোযোগিরা।
Manual2 Ad Code
কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় দুর্গোৎসবের আয়োজন দশমীর মধ্যে দিয়ে বিদায়ী অনুষ্ঠানে সম্পন্ন হবে। পূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সন্ধ্যায় মহাআরতি ও ভোগ বিতরণের আয়োজন রাখা হয়েছে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ১৭৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনেরও এক অনন্য উপলক্ষ। মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য ও মিলনমেলার আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। দেশ ও জাতির কল্যাণ হোক এই প্রত্যাশা।