আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটির সাজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি: পুলিশ

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ
রাঙামাটির সাজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি: পুলিশ

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

Manual7 Ad Code

এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তাঁরা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা উজো বাজার এলাকায় আটকা পড়েন।

Manual8 Ad Code

অবরোধকারীরা উজো বাজার এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটকেরা সেখান থেকে সরতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকের গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পরই সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানায় পুলিশ।

গতকাল বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়।

আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা মেনে আজ সকালে সাজেক ছাড়ছিলেন পর্যটকেরা। তবে সাজেক থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজো বাজারে অবরোধকারীদের সামনে পড়েন তাঁরা।

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন প্রথম আলোকে বলেন, অন্যদিন সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যান সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে আজ ছেড়েছে সকাল ৯টায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।

এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

Manual7 Ad Code

অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন পর্যটকেরা। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য সুএঃ প্রথম আলো

Manual6 Ad Code