জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমছে, আরও গভীর হবে গ্যাসসংকট
জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমছে, আরও গভীর হবে গ্যাসসংকট
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual4 Ad Code
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমতে যাচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত এলাকায় বসতবাড়িসহ সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে মাসের শুরু থেকেই এলপিজি বাজারে সংকট ও দামের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাবে।
চাহিদা–সরবরাহের বড় ব্যবধান
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির বড় অংশ পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের সময়ে সেই সরবরাহও কমে যাচ্ছে।
বসতবাড়িতে ভোগান্তি বাড়ছে
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বসতবাড়িতে। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার চাহিদার সময়ে বহু জায়গায় চুলায় আগুন জ্বালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। শীত মৌসুমে রান্না ও দৈনন্দিন কাজে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
Manual8 Ad Code
মাসের শুরু থেকেই এলপিজি সংকট
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি বাজারেও চলতি মাসের শুরু থেকেই সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহন জটিলতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পেতে দেরি, পাশাপাশি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠছে।
শিল্পে সংকট
গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও শিফট কমানো বা উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করছে।
কবে স্বাভাবিক হবে
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। তবে চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বসতবাড়িসহ সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে সময় লাগতে পারে।
সংস্থাটি সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংকটকালীন সময়ে গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।