তিনি যখন ‘ট্রাস্ট পাম্প’ থেকে তেল নিয়ে বের হন তখন শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৮টা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইসমাইল তেল পেয়েছেন ১০ লিটার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত থেকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর ট্রাস্ট পেট্রোল পাম্পে লাগাতার এক কিলোমিটারের বেশি যানবাহনের সারি ছিল। সেনাকল্যাণ ট্রাাস্ট পরিচালিত এই পেট্রোল পাম্পটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তেল বিক্রি করছে।
কয়েকদিন ধরেই ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।
বাস ও ট্রাক চালকেরা বলছেন, ঢাকার কিছু পাম্পে তাও তেল বিক্রি করছে। কিন্তু ঢাকার বাইরের অবস্থা আরও করুণ। পাম্পগুলো তাদের নিয়মিত গ্রাহক, চুক্তিবদ্ধ বড় পরিবহন কোম্পানি বা পরিচিতদের বাইরে অন্যদের তেল দিচ্ছে না।
তেলের এই অনিশ্চয়তা থেকে আন্তঃজেলা ট্রাক ও বাসগুলো ঢাকা থেকে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করছে। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে তেল না পাওয়ারও অভিযোগ করছেন চালকেরা।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদ যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে বলে আগাম সতর্ক করছেন বাস কোম্পানির কর্মকর্তা ও মালিক নেতারা।
সরকারের তরফে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে নানাভাবে আশ্বস্ত করা হলেও জ্বালানি তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে।
পাম্পগুলো কিছুক্ষণ জ্বালানি তেল বিক্রি করে আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে তাদের ওপর চাপ বাড়ছেই।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় গত কয়েক দিনে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঢাকায় তেল বিক্রি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার খবর আসে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার, এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে।
ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, চাপ পড়েছে ডিপোতেও
এরপর অনিয়ম, মজুদদারি ও বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট চালানোর নির্দেশ দেয় সরকার। অবৈধ মজুদ, বেশি দাম নেওয়া ও চোরাচালান ঠেকাতে এই অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং, মোবাইল কোর্টের নজরদারি এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চাপে ফিলিং স্টেশন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
পাম্প মালিকরা তেল থাকার পরেও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকারের কিছু উদ্যোগকে দায়ী করছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৫ মার্চ থেকে রেশনিংয়ের পরিবর্তে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে।
সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষা পর ১০ লিটার
সকালে ইসমাইল নামে যে কাভার্ড ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হয় তিনি এসেছিলেন রাজধানীর ফলের আড়ত খ্যাত বাদামতলী থেকে।
তিনি বলছিলেন, “সরকার যে ৭০-৮০ লিটার কইরা তেল দিতে বলছে পিকাপ ভ্যানে সেইটাও তো কোথাও পাইতাছি না। তেলই দেয় না পাম্পগুলান। এরা তো তবুও ১০ লিটার দিছে।”
তেল না পাওয়ার কারণে দুইদিন গাড়ি বসিয়ে রেখেছিলেন জানিয়ে ইসমাইল বলেন, “মঙ্গলবার এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় এক পাম্পে ঢুকালাম। দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর পাম্প থেকে জানান দিল যে আর তেল নাই। কেমনটা লাগে কন!
“ট্রিপ ধইরা কি আমি মাঝ রাস্তায় গাড়ি বন্ধ কইরা বইয়া থাকুম। এজন্যে ট্রিপই ধরি না দুইদিন। কিন্তু সামনে ঈদ, বাইর তো হইতে হইব।”
তিনি বলছিলেন, তার ‘অশোক লেইল্যান্ড দোস্ত’ মডেলের গাড়িটা ১ লিটার ডিজেলে ১০ কিলোমিটারের মতো চলে। কিন্তু ট্যাংকিতে অন্তত ২০ লিটার ডিজেল না থাকলে যে কোন ট্রিপ ধরাই মুশকিল।
তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয় হাজী পরিবহন নামে একটি বাসের চালক আবুল বাশারের সঙ্গে। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানোর পরেও তিনি তখন পাম্প থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে লিংক রোডে।
ঢাকা-হালুয়াঘাট রুটে চলাচলকারী বাসটির চালক আবুল বাশার বলছিলেন, “গাজীপুরের ওই দিকে কোথাও তেল নাই। আর যাত্রী নিয়া তো আপনি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াইতে পারবেন না। যে কোম্পানির (বাস অপারেটর) নিজস্ব পাম্প আছে তাগো কথা আলাদা। কিন্তু আমরা তো খুব বিপদে আছি। তেল নিতে পারতেছি না।
ভুঁইয়া পরিবহন বাসের চালক এমদাদুল হক বলছিলেন, “গাড়ি বন্ধ কইরা কই বাড়ি যামু, রোজা-রমজান মাস। এহন আইসা খাড়ায়া আছি তেলের লাইনে। কাইলকাও রাইতভর খাড়ায়া পরে ৫০ লিটার তেল পাইছি।”
ফাইল ছবি
ঈদযাত্রার কী হবে?
বৃহস্পতিবার থেকে বাসে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রার আগাম টিকেট দেওয়া শুরু হয় ৩ মার্চ।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এরকম থাকলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আগাম সংকেত দিয়ে দিয়েছেন বাস সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত ডিজেল সংকটের কারণে দূরপাল্লার বাস অপারেটরগুলো খুব বেশি ট্রিপ বাতিল করেনি বলে এদিন গাবতলী ও কল্যাণপুর ঘুরে জানা গেল।
কল্যাণপুরের গ্রামীণ পরিবহনের বাসের ম্যানেজার মো. হাসান বলেন, “আমরা তো ঈদের সব বুকিং ফুল কইরা রাখছি। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু একদিন একটা এসি গাড়ির ট্রিপ বাতিল করছি। এছাড়া গাড়িগুলান সব চলতেছে।”
তিনি বলেন, “ঢাকা-রাজশাহী আপ-ডাউনে নতুন গাড়িগুলোতে ১২০ থেকে ১৩০ লিটার ডিজেল লাগে, আর পুরনো হলে আরেকটু বেশি। এসি গাড়িতে ডিজেলের এই খরচ দেড়শ’র ওপরে চলে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে নানাভাবে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে।”
দেশের অন্যতম বড় অপারেটর হানিফ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সামাদ বলছেন, “ঢাকায় যা লাইন সব তো অক্টেনের জন্য। ডিজেলের সংকট আছে, তবে আমরা এখনো চালাচ্ছি।”
তবে তেল সংকটের কারণে হানিফ এন্টারপ্রাইজ শেষের দিকে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়। যদিও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একাধিক নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছে।
নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছের দেশের আরেক পুরনো বাস অপারেটর সোহাগ পরিবহনেরও।
Manual8 Ad Code
তবে সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক তালুকদার সোহেল বলছেন, পাম্পে রেশনিংয়ের কারণে তেল পেতে সমস্যা হচ্ছে। বাসগুলোকে চাহিদামাফিক তেল দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চললে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হতে পারে, বলছেন এই ব্যবসায়ীও।
Manual7 Ad Code
আসলেই কি ঈদের যাতায়াতে তেলের কারণে ভোগান্তি হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, “আগামী কয়েকদিনে তেলের কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেটা তো প্র্যাকটিক্যালি এখনি বলা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি এরকম থাকলে আপনি যদি স্পেকিউলেট করেন, তাহলে কিছু শঙ্কা তো থেকেই যায়।”
এর মধ্যেই অনেক বাস কোম্পানি আগাম নোটিস দিয়ে ট্রিপ বাতিল বা অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে।
এসি স্লিপার বাস অপারেটর আইকনিক এক্সপ্রেস গেল ১০ মার্চ তাদের ফেইসবুক পেইজে যাত্রীদের সতর্ক করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, “চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও তেলের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে… আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইকনিক এক্সপ্রেসের নির্ধারিত কিছু ট্রিপ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
“যারা ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন বা করবেন, তাদের নিয়মিত আমাদের কাউন্টারে যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি কোনো যাত্রা বাতিল হয়, তবে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।”
বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, “এখন তেলের যে রেশনিং করা হচ্ছে তাতে গাড়িগুলোর পাম্পে গিয়ে তেল ভরতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। তাতে সমস্যা তো হচ্ছেই।
“তবে ঈদের সময় এভাবে রেশনিং করলে আমরা যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারবো না। তখন তো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে এসেই গাড়িগুলো আবার ঘুরে যায়। তখন রেশনিং থাকলে গাড়িগুলো যাত্রী টানবে না পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য লাইন দেবে।”
Manual5 Ad Code
সরকারকে দায়ী করছেন পাম্প মালিকরা
পেট্রোল পাম্প মালিকেরা এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তেল সরবরাহ স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ৫ মার্চ সরকারের তরফ থেকে তেল সাশ্রয়ের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ায়। লোকজন ট্যাংক ভর্তি করে তেল কিনে মজুদ করা শুরু করলে পেট্রোল পাম্পগুলো রাতারাতি খালি হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ৬ মার্চ সরকার তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেয়। পাশাপাশি পাম্পগুলোর সরবরাহ কমিয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
Manual5 Ad Code
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেছেন, “সারাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের মোট পেট্রোল ও অকটেন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিলেটেই উৎপাদিত হয়।
“প্রথমে গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় শুরু হয়। এর ফলে বাজারে হঠাৎ চাপ তৈরি হয়। তবে সংকটের সূচনা গুজব থেকে হলেও, পরবর্তীতে বিপিসি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই রেশনিংয়ের একটা নীতিমালা দেয়। এই বিপণন নীতিমালা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত ও দীর্ঘায়িত করেছে।”
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
দুর্ভোগের সম্ভাবনা দেখছেন না সড়কমন্ত্রী
তবে সরকারের তরফ থেকে রোববার থেকে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ট্রেনে ঈদযাত্রার প্রথম দিন শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তেলের দামও বাড়ানো হবে না।
তিনি বলেন, “তেলে কোন সমস্যা হবে না। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহন যারা আছে তারা তেল অবাধে পাবেন, এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন ১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত তেল গণপরিবহনে সরবরাহ করা হবে। আর তেলের দাম বাড়ানো হবে না। যার ফলে ভাড়াও বাড়বে না।
“যার কারণে আমি এখন পর্যন্ত তেল সংক্রান্ত দুর্ভোগ হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না।”