আজ বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা-কাদের-কামালদের তিন হত্যা মামলার সত্যতা পায়নি পুলিশ

editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা-কাদের-কামালদের তিন হত্যা মামলার সত্যতা পায়নি পুলিশ

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual8 Ad Code

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ‘তথ্যগত ভুল’ উল্লেখ করে আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই প্রতিবেদনগুলোর ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করেন।

ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর হত্যা মামলা

Manual2 Ad Code

২০২৪ সালের ২০ জুলাই বসুন্ধরা গেট এলাকায় ককটেলের আঘাতে নিহত হন জাহাঙ্গীর। এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নেছার উদ্দিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার সময়কার বিশৃঙ্খলায় সুনির্দিষ্ট কার আদেশে বা কার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে, তার কোনও অকাট্য সাক্ষী বা ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এমনকি এজাহারভুক্ত আসামিদের শনাক্ত করতেও সাক্ষীরা ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে একে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে ৮৪ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

জাকির হোসেন হত্যা মামলা

১৯ জুলাই নতুন বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান জাকির। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৬৫ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরহাদ কামাল সুজন প্রতিবেদনে জানান, ঘটনার সত্যতা থাকলেও এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে ১৬৫ নম্বর আসামি পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধেই সরাসরি জড়িত থাকা বা নির্দেশ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদল কর্মী রমজান মিয়া হত্যা মামলা

যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রমজান মিয়া নিহতের ঘটনায় ২৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এই মামলাতেও তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এই মামলাটিকেও ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ ও বাদীর বক্তব্য

রমজান মিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক রুবেল মিয়া জানান, তদন্তে যা পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। অন্য দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন দিয়েও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এদিকে ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর হত্যার বাদী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যদি অব্যাহতি দিয়ে দেয় দিক। এসব নিয়ে আর ঝামেলা বা হয়রানি ভালো লাগে না। মামলার দরকার ছিল করেছি, এখন আদালত যা সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই মেনে নেব।” অন্য দুই মামলার বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Manual6 Ad Code

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মূল দিক

Manual7 Ad Code

পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে। ভাটারা থানা এলাকায় মৃত্যু দেখানো হলেও তদন্তে দেখা গেছে অনেকেই ভিন্ন জায়গায় মারা গেছেন। এছাড়া ডিজিটাল ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।