আজ শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদন; বাংলাদেশ কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ণ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদন;  বাংলাদেশ কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, তিন কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দেশের ভেতরে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যর ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক চাপ। এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে। আগের ঋণ পরিশোধের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েছে। এ অবস্থায় রিজার্ভ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। তবে বৈদেশিক দায়ের তুলনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুট শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

Manual4 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ শতাংশে নামবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠবে। তবে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার কমবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক খাতে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলে বিদ্যমান ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নতুন সরকারের জন্য কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বেসরকারি খাতের জন্য আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব পদক্ষেপ নিয়ে প্রবৃদ্ধির ধারাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব কম, দুর্বল অভ্যন্তরীণ বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দেশের মোট জিডিপির ২২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অপর্যাপ্ত হওয়ায়, রিজার্ভ কমতে থাকায় ও যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। রিজার্ভ কম থাকায় এ ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বৈদেশিক খাতে তারল্য সংকট ও বৈদেশিক অর্থায়ন হ্রাস পাওয়ায় ঝুঁকির প্রবণতা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় দ্রুত বাড়ার কারণে স্বল্পমাত্রার রিজার্ভ চাপে পড়েছে। সংকট মোকাবিলা করতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমে সাড়ে ৮ শতাংশে নামতে পারে।

Manual2 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সাধারণ নির্বাচনের ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে গেছে। এতে বিনিয়োগ বাড়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে। এতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে।

Manual7 Ad Code

এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাবে। বৈশ্বিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পেলে ও সরবরাহ শৃঙ্খলা বাধার সৃষ্টি হলে দেশের ভেতরে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। তখন মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে কঠিন করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তেল ও গ্যাসের দাম যদি বাড়ানো না হয় তাহলে সরকারের বাজেট ঘাটতি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবে। যা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।তথ্য সুএঃ যুগান্তর

Manual6 Ad Code