পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
বিদেশ ভ্রমণ, কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা কিংবা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বা শেষের দিকে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করতে হয়। বর্তমানে দেশে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে করা যায়। ফলে নাগরিকদের জন্য এটি অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে থাকে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারেন।
নাগরিক সেবা সহজে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করেছে, যা এখন দেশের সব জেলায় কার্যকর রয়েছে। এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন জমা দেওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ধাপগুলো অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব।
পাসপোর্ট রিনিউ কেন গুরুত্বপূর্ণ
পাসপোর্ট একজন নাগরিকের আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র। এটি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা আবেদন বা অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ও সরকারি সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। সাধারণত অনেক দেশে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হয়। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বা শেষ হলে দ্রুত নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করার ধাপসমূহ
বর্তমানে পাসপোর্ট রিনিউ করতে হলে অনলাইনে ই পাসপোর্ট ওয়েবসাইট এখানে গিয়ে আবেদন করতে হয়। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করতে হয়। এরপর ‘অ্যাপ্লাই ফর নিউ পাসপোর্ট’ অপশনে প্রবেশ করে রিনিউ আবেদন শুরু করা হয়।
আবেদনের সময় প্রথমে পাসপোর্ট টাইপ নির্বাচন করতে হয়। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা এবং পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য প্রদান করতে হয়। পুরোনো এমআরপি বা ই-পাসপোর্ট নম্বর দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক তথ্য দেখায়, যা পূরণ করা সহজ করে দেয়।
এরপর ‘আইডি ডকুমেন্ট’ ধাপে গিয়ে রিনিউয়ের কারণ নির্বাচন করতে হয়। যেমন—
মেয়াদ শেষ (Expired)
Manual8 Ad Code
হারানো (Lost/Stolen)
Manual6 Ad Code
তথ্য সংশোধন (Data Change)
নষ্ট পাসপোর্ট (Unusable)
Manual6 Ad Code
সব তথ্য যাচাই শেষে আবেদন সাবমিট করতে হয় এবং একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ নিয়ম
বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করেন। ফর্মে ‘Are You Applying from Bangladesh?’ প্রশ্নে ‘No’ নির্বাচন করে বর্তমান দেশের নাম দিতে হয়। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে রেসিডেন্স কার্ড বা আকামা যুক্ত করতে হতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট রিনিউ করতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে—
পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি
Manual4 Ad Code
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন
অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি
পাসপোর্ট ফি জমার রশিদ
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC বা GO
ফি ও সময়
পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। সাধারণত ৫ বছর ও ১০ বছরের মেয়াদে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট পাওয়া যায়। প্রসেসিং টাইপ অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট রিনিউ সম্পন্ন হয়। জরুরি সেবার ক্ষেত্রে সময় আরও কম হতে পারে।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েন। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্য না মিললে আবেদন বাতিল হতে পারে। আবার অনেকেই দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে দ্রুত সেবা নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। ফি পরিশোধ ছাড়া আবেদন সম্পন্ন করা যায় না- এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।সুএঃ যুগান্তর