এবার ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
এবার ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
editor
প্রকাশিত October 28, 2026, 11:02 PM
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অপারেটররা। পাশাপাশি এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জ পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব, ব্যয়সংক্রান্ত যুক্তি ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।তবে দাম বাড়ানোর বিদ্যমান প্রস্তাব কার্যকর হবে, এমন নয়। গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
এলপিজি অপারেটরদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেই হিসাবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তার খরচ বাড়বে ৩০০ টাকা।
অর্থাৎ, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে প্রায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাসে একটি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আরও ৩০০ টাকা।
Manual7 Ad Code
যদিও প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। বিইআরসির গণশুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি।
আমদানিকারক কোম্পানি বা এলপিজি অপারেটররা গত ১৮ অক্টোবর বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাবে কোম্পানিগুলো বলেছে, প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি), প্রিমিয়াম বা জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনায় নেয় বিইআরসি। তবে গত পাঁচ বছরে এ খাতের অন্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে এসব ব্যয়ের পুরো প্রতিফলন না থাকায় দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) চিঠিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য চার্জকে নির্দিষ্ট বা ফিক্সড এবং পরিবর্তনশীল বা ভেরিয়েবল- এই দুই ভাগে হিসাব করে। নির্দিষ্ট চার্জের মধ্যে ল্যান্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টমস সার্ভে ও পোর্ট চার্জ বাবদ প্রতি মেট্রিক টনে ৩০০ টাকা ধরা হয়। অথচ এসব খাতে প্রকৃত ব্যয় ৩৮০ টাকা বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তিতে শুধু ভোক্তা পর্যায়ের দাম নয়, এলপিজির সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের চার্জ পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
Manual5 Ad Code
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ, পরিবেশক বা ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ বৃদ্ধি, খুচরা বিক্রেতা বা রিটেইলার চার্জ পুনর্নির্ধারণ, সরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীদের অন্য প্রস্তাবিত চার্জ পর্যালোচনা।
Manual6 Ad Code
এসব চার্জ শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এলপিজি আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে প্রতিটি খাতে কী পরিমাণ ব্যয় গ্রহণযোগ্য, তা নির্ধারণ করা গণশুনানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।