ইউক্রেনের ছয় জন নাগরিক ভারতে আটক হওয়ার ঘটনায় দিল্লিতে ইউক্রেনের দূতাবাস প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে, আটকদের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়াই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে প্রবেশ এবং বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ইউক্রেন দূতাবাস এক্স-এ পোস্ট করা এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছে যে, তাদের দেশের ওই নাগরিকদের আটক করা হয়েছে “রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে”।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
মি. জয়সওয়াল বলেন, “ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য পারমিট নেওয়া প্রয়োজন। তাদের (ইউক্রেনীয় নাগরিকদের) এই বিশেষ অনুমতি ছিল কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন আদালত নেবে। পুরো ঘটনা আদালতের সামনে পেশ করা হবে, তখনই সত্যটা বেরিয়ে আসবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “আমি বলব যে এনআইএ (ভারতের সন্ত্রাস-রোধী এজেন্সি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) যদি এই মামলায় কোনো বিবৃতি দেয়, তবে আপনারা সেটা দেখুন। আমি এখনও এই বিষয়ের খুঁটিনাটিতে যাইনি, তবে আমি যতটা জানি, তা হলো, ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ধৃতদের কাছে ছিল না।”
দেশ হিসাবে ইউক্রেন কোনো ধরনের “সন্ত্রাসমূলক কাজকে সমর্থন দেওয়ার” সম্ভাবনা দৃঢ়ভাবে খারিজ করা হয়েছে ইউক্রেনীয় দূতাবাসের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তাদের দেশকে যে প্রতিনিয়ত “রাশিয়ার সন্ত্রাস”-এর ফল ভুগতে হচ্ছে, সেটাও লেখা হয়েছে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। এই কারণেই নীতিগতভাবে তারা কোনো আপস ছাড়াই সব ধরনের ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার পক্ষে।
Manual6 Ad Code
দিল্লিতে ইউক্রেনের দূতাবাসের বিবৃতি
কী বলছে ইউক্রেন?
ইউক্রেনের দূতাবাস যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে ভারত আর ইউক্রেন যে “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের” বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Manual2 Ad Code
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে আটকের প্রকাশ্য বিবৃতি ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, রুশ পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতে ইউক্রেন দূতাবাস এ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এরকম ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি সুপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে সেদেশের সংবাদ সংস্থা ইউকেআরইনফর্ম জানিয়েছে, দিল্লিতে নিযুক্ত সে দেশের রাষ্ট্রদূত ওলেকজান্দ্র পোলিশচুক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আটক হওয়া ইউক্রেনীয় নাগরিকদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এবংআটকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
Manual4 Ad Code
দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে যে তাদের এক নাগরিক আটক হওয়ার খবর তারা জানে – ফাইল ছবি
আটক এক মার্কিন নাগরিকও
ইউকেআরইনফর্মের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই ইউক্রেনীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন মার্কিন নাগরিককেও আটক করেছে।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্রের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন,
আমরা বিষয়টি জানি, কিন্তু গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারি না”
ওই বিদেশি নাগরিকরা কেন মিজোরামে গিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা ইউকেআরইনফর্মের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ভারতে ইউক্রেন দূতাবাস ওই নাগরিকদের আটকের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। এটা আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যতিক্রম।
ওই সংবাদ সংস্থা ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে এখনও পর্যন্ত এমন কোনো শক্তপোক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে ওই ইউক্রেনীয় নাগরিকরা ভারত বা মিয়ানমারে কোনো অবৈধ কাজে জড়িত ছিলেন।
ইউক্রেন অভিযোগ করেছে যে কয়েকটি ভারতীয় এবং রাশিয়ার গণমাধ্যম এই ঘটনায় তথ্য বিকৃতি ঘটিয়ে প্রতিবেদন করছে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ইউক্রেনের মতে, এই ছয় নাগরিককে আইনি সহায়তা এবং আইনজীবী দেওয়া হয়েছে।
পিটিআই জানাচ্ছে যে গত ১৬ই মার্চ এই মামলার শুনানি হয়েছে। সেখানে ইউক্রেনের দূতাবাসের প্রতিনিধিও হাজির ছিলেন। তবে তার সঙ্গে আটক ইউক্রেনীয়দের সরাসরি কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শুনানির পরে ২৭শে মার্চ পর্যন্ত আটকদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।তথ্য সুএঃ বিবিসি বাংলা