জ্বালানিই এখন অস্ত্র: তেল-রাজনীতির নতুন বিশ্বব্যবস্থা
জ্বালানিই এখন অস্ত্র: তেল-রাজনীতির নতুন বিশ্বব্যবস্থা
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের তেলের বাজারে এক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এক সময়ের উন্মুক্ত ও সাবলীল এই জ্বালানি ব্যবস্থা এখন ক্রমশ খণ্ডিত ও রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতের এই আমূল পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ডলারভিত্তিক বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন আধিপত্যের ভিত্তিকেও নাড়িয়ে দিতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে তেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন দুষ্প্রাপ্য ব্যারেল সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং তেল-রাজনীতি বিষয়ক গবেষক ড্যান ইয়ারগিন এই পরিস্থিতিকে ‘সবচেয়ে বড় সাপ্লাই চেইন বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, তেলের বাজার হয়তো চিরতরে বদলে গেছে। যেখানে সহযোগিতার চেয়ে দেশীয় বা আঞ্চলিক স্বার্থ এবং জ্বালানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতাই এখন প্রধান হয়ে উঠছে। আর এই ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’ সাধারণ ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটের বার্তাই বয়ে আনছে।
Manual3 Ad Code
ইতিহাস বলছে, এ ধরনের বড় ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনে। যেমন- ১৯৪০-এর দশকের সুয়েজ সংকটকে দেখা হয় বিশ্বশক্তি হিসেবে ব্রিটেনের পতনের মুহূর্ত হিসেবে।
Manual1 Ad Code
বর্তমান সংকট নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যুক্তরাষ্ট্রও কি একই ধরনের কোনও মুহূর্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে? ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় ওপেকভুক্ত আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে পরবর্তী দশকে তেলের দাম ২ হাজার শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে সেই সময় দেশগুলো একক পদক্ষেপের চেয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার শিক্ষাই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।
Manual2 Ad Code
সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মতে, বর্তমানের খণ্ডিত ও সংঘাতপ্রবণ বিশ্বে দেশগুলো হয়তো উল্টো শিক্ষা নিচ্ছে। ইরান এখন বুঝতে পেরেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালিকে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তেলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।