কলকাতায় তোফায়েল আহমেদ-সহ প্রয়াত নেতাদের স্মরণে সভা আওয়ামী লিগের
কলকাতায় তোফায়েল আহমেদ-সহ প্রয়াত নেতাদের স্মরণে সভা আওয়ামী লিগের
editor
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual6 Ad Code
একদা পূর্ব পাকিস্তান, অধুনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। যে অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতারচ্যুত হয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন সেনা শাসক আইয়ুব খান। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা। গত ১ জুন সেই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বলে খ্যাত তোফায়েল আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন। সাবেক এই মন্ত্রী এবং নয় বারের সাংসদ তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রয়াত হন গত ১৩ মে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা এই নেতা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের প্রণেতাদের একজন, যিনি ছয়বার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। পাঁচ বারের এই সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত হন গত ৩ জুন।
সদ্যপ্রয়াত এই নেতাদের স্মরণে শুক্রবার রাতে কলকাতার উত্তর শহরতলীতে স্মরণ সভার আয়োজন করেছিল আওয়ামী লিগ। একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে আয়োজিত সেই সভায় কলকাতা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ এবং এই রাজ্যের বাইরে বসবাসকারী আওয়ামী লিগের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় শ-চারেক মানুষের এই স্মরণ সভাটি প্রবাসী আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্মরণসভায় উপস্থিত অনেকেই একবাক্যে বলছেন, ২০২৪-এর ৫ অগস্টের পর কলকাতায় আওয়ামী লিগের উদ্যোগে এত বড় জমায়েত হয়নি। সুশৃংখল পরিবেশে প্রয়াত নেতাদের স্মৃতিচারণা করেন আওয়ামী লিগের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমূখ।
Manual2 Ad Code
রবিবার ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের ৫৭ তম বর্ষপূর্তি পালনের নানা কর্মসূচি নিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠান শেষে আলোচনা করেন নেতারা। রবিবার এই উপলক্ষে দলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
Manual7 Ad Code
সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রয়াত আওয়ামী লিগ নেতাদের জানাজা অর্থাৎ বিদায়কালীন বিশেষ প্রার্থনা সভায় তুমুল ভিড় হচ্ছে। আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও ভয় ভীতি উপেক্ষা করে দেশে থাকা নেতাকর্মীরা জানাজায় শামিল হচ্ছেন।
বিগত কয়েক মাসে প্রয়াত নেতাদের জানাজায় জনতার ঢল দেখে প্রশাসনও নতুন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এলাকার বড় ময়দানগুলিতে প্রয়াত আওয়ামী লিগ নেতাদের জানাজায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করছে তারেক রহমানের সরকার। প্রয়াত তোফায়েল আহমেদের বাংলাদেশের নয় বারের সাংসদ ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য বাংলাদেশের একজন প্রবাদপ্রতীম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন আওয়ামী লিগের এই বর্ষীয়ান নেতা। তারপরও জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপি।
রাজনৈতিক এই সংকীর্ণতা নিয়ে স্মরণসভায় একাধিক আওয়ামী লিগ নেতা সরব হন। তোফায়েল আহমেদকে সমাহিত করা হয় ভোলায় তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে। সেখানেও তাঁর জানাজায় নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করে প্রশাসন। তবে সব বাধা পেরিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রয়াত নেতাকে বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন।
Manual3 Ad Code
শুক্রবার (০৫ জুন) রাতের ওই সভা নিয়ে প্রবাসী আওয়ামী লিগ নেতাদের দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। এক নেতা বলেন, দেশ ছেড়ে আসার পর আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি এবং বিচ্ছিন্নতা ছিল। নেত্রী শেখ হাসিনা বারে বারে এই ব্যাপারে দলকে সতর্ক করে আসছিলেন। তিনি বলছেন, এখন সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভুল ধরার সময় এখন নয়। এখন দলকে গোছাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রবীণ এক নেতা বলেন, শুক্রবারের স্মরণ সভাটি দলের সেই ঐক্যের এক অতি আবশ্যিক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। এতদিন বৈঠকে, অনুষ্ঠানে যোগ দেননি এমন অনেক নেতা কর্মী শুক্রবারে স্মরণ অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিক আলোচনায় ছিল তুমুল উৎসাহ।
এক নেতার কথায়, দলনেত্রী দেশে ফেরার ঘোষণা দিতে প্রবাসে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে আছেন দেশে ফেরার জন্য। তার আগে আওয়ামী লিগ দেশে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করতে চায়। যাতে নেত্রীর প্রত্যাবর্তন নির্বিঘ্নে হতে পারে। তথ্য সুএঃ দ্যা ওয়াল