হবিগঞ্জে উল্টো রথযাত্রায় শেষ হলো ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মহোৎসব
হবিগঞ্জে উল্টো রথযাত্রায় শেষ হলো ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মহোৎসব
editor
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভক্তি, আনন্দ, হরিনাম সংকীর্তন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে শেষ হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) পরিচালিত হবিগঞ্জের শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউ মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত উল্টো রথযাত্রায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো ভক্ত, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা।
বিকেলে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে অধিষ্ঠিত করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢাক, করতাল, শঙ্খধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা রথের রশি টেনে ভগবানের আশীর্বাদ কামনা করেন। শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউ মন্দিরে এসে শেষ হয়।
এ উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় হুইপ ও হবিগঞ্জ সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছে, যা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
তিনি আরও বলেন, মানবতা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা ধর্মের মূল বার্তা। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সভায় বিশেষ অতিথিবৃন্দ রথযাত্রা মহোৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করেন।
মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ উদয় গৌর দাস ব্রহ্মচারী বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা ভক্তি, প্রেম ও আত্মসমর্পণের এক মহামিলন। এ উৎসব মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বরচেতনা, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করে।
৯ দিনব্যাপী মহোৎসব চলাকালে প্রতিদিন মঙ্গল আরতি, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, হরিনাম সংকীর্তন, ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজভোগ এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ বছরের মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও ভক্তদের হৃদয়ে এর আনন্দ ও আধ্যাত্মিক আবেশ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।