রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র্যালি বিজেপির
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র্যালি বিজেপির
editor
প্রকাশিত November 1, 2026, 07:12 PM
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ভারতে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীসহ একাধিক শীর্ষ নেতারা বিক্ষোভে নেমেছেন। এদিকে দিল্লিতে পাল্টাপাল্টি পদযাত্রা ও সমাবেশ করছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট ও শাসক দল বিজেপি।
রোববার (১ নভেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিবেশন চলাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটার বাদ দেওয়া ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ এনে প্রস্তাব পাস করে ইন্ডিয়া জোট। রামলীলা ময়দানে আয়োজিত সংবাদের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছাতে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মূল ভূমিকা রাখছেন বামপন্থীরা।
Manual2 Ad Code
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল এই আন্দোলনকে ‘চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পর রাজ্যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি চলছে।’ রাহুল গান্ধী সম্পর্কে তিনি যোগ করেন, তিনি ‘ভয়হীনভাবে প্রশ্ন তুলছেন’ এবং ক্ষমতাবানদের ‘জবাবদিহি করছেন’।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ১০ হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর বলেন, ‘আমরা ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পুরো এলাকা কভার করেছি। আয়োজকদের নিজস্ব কন্ট্রোল রুম রয়েছে এবং আমরা এই পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করছি।’
সাংবাদিক ও সাবেক আপ নেতা আশুতোষ এনডিটিভিকে বলেন, ‘যেকোনো ধরনের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সত্যগ্রহ প্রদর্শন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণেই ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সবসময় এর পক্ষে ছিলাম। বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতাহীন হতে হবে। হিংসাত্মক কোনো প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অংশ নয়।’
বিরোধী দলের এই আন্দোলনকে ‘মেলোড্রামা’ ও ‘বোকামি’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, ‘এটি নৈরাজ্য সৃষ্টির এক ষড়যন্ত্র। তাদের রাজনৈতিক মডেল কী? জনগণ এই নাটকটি জানে, এই সমাবেশটি একটি রাজনৈতিক নাটক।’
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে তাদের আন্দোলনে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘দিদিকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছিলাম কারণ যেভাবে তিনি আমাদের প্রথম যন্তর মন্তর আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন, তিনি সবসময় তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে ছিলেন। যখন সৌরভ ও আশুতোষকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, তখনও দিদি আমাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।’
অন্যদিকে ১৯৮৪ সালের শিখবিদ্বেষী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পৃথক পদযাত্রা করছে বিজেপি। এতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, হর্ষ মালহোত্রা, এইচ এস ফুলকা, মঞ্জিন্দর সিং সিরসা এবং সংসদ সদস্য বাঁশুরি স্বরাজ কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন।
Manual5 Ad Code
উৎসবের মৌসুমে কেন্দ্রীয় দিল্লির পাইকারি বাজারে ব্যবসা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারং বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, আবার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বিরুদ্ধেও নই। তবে সময় ও স্থান সম্পূর্ণ ভুল।’ তিনি জানান, আশপাশের চাঁদনি চক, সদর বাজার, দরিয়াগঞ্জ ও কাশ্মীরি গেটের ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সংগঠনের সহ-সভাপতি রবীন্দ্র সিং কোহলি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দিনমজুর, কুলিরা, যারা পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য দৈনিক ২০০-৩০০ রুপি উপার্জনের ওপর নির্ভর করে।’ এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ধর্মপাল রত্র ব্যবসায়ীদের ২ হাজার কোটি রুপির বেশি লোকসানের শঙ্কার কথা জানান।
Manual4 Ad Code
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করে রাহুল গান্ধী অংশগ্রহণকারীদের কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিবাদ করুন, পদযাত্রা করুন, সমাবেশ করুন এবং এর পাশাপাশি কিছুটা কেনাকাটাও করুন। এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি জানি সমাবেশে ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতি হবে না। বিজেপি ভীত, তাই তারা গুজব ছড়াচ্ছে।’