ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, ঘরমুখী লাখো মানুষের চরম ভোগান্তি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, ঘরমুখী লাখো মানুষের চরম ভোগান্তি
editor
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে এক ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এই রুটে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা একযোগে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এর ফলে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় পার হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সড়কজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, যা হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে।
Manual1 Ad Code
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই মূলত মহাসড়কে এই তীব্র যানজটের চিত্র দৃশ্যমান হতে থাকে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়ক থেকে শুরু করে চন্দ্রা বাস স্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রথমে এই জটলা সীমাবদ্ধ থাকলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ধীরে ধীরে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এই যানজটের ব্যাপ্তি চন্দ্রা ছাড়িয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
Manual1 Ad Code
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন রাজধানী ঢাকা, সাভার এবং গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকা থেকে একযোগে বের হতে শুরু করে। ফলে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই জটলার প্রভাব এতটাই ব্যাপক ছিল যে, তা পেছনের দিকে জেলার ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। একই সাথে চন্দ্রা পার হয়ে উত্তরের দিকে যাওয়ার সড়কেও গাড়ির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থেকেও যাত্রীরা গন্তব্যের দেখা পাচ্ছেন না।
Manual3 Ad Code
টাঙ্গাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দিনের বেলা এই জেলার মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে শুরু করে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো ধরনের যানজটের লক্ষণ ছিল না। যাত্রীবাহী বাসসহ সমস্ত যানবাহন অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন গতিতে এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। তবে রাত ৯টা বাজার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং কালিয়াকৈর থেকে মির্জাপুর অংশে নতুন করে যানজট দানা বাঁধে। এর পাশাপাশি এলেঙ্গা থেকে শুরু করে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি ও জটলা লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে, শিল্পনগরী গাজীপুরের সব তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শিল্প কারখানা মঙ্গলবার সকালে একযোগে ছুটি হওয়ার পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের এক বিশাল চাপ তৈরি হয়। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে শুরু হওয়া টানা দুই ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে ঘরমুখী হাজার হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির পর লাখেরও বেশি যাত্রী একযোগে মহাসড়কে এসে অবস্থান নিলে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র যানবাহন সংকট দেখা দেয়। গণপরিবহন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সড়কের বিভিন্ন মোড়ে গাড়ির আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
Manual3 Ad Code
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আটকে থাকা ইতিহাস পরিবহনের একজন বাস চালক সুমন জানান, তীব্র যানজটের কারণে তিনি বিগত এক ঘণ্টায় মাত্র এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পেরেছেন। চন্দ্রা এলাকাটি কোনোভাবে পার হতে পারলে স্বস্তি পাবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থেকে অনেক যাত্রীই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বগুড়াগামী একতা পরিবহনের যাত্রী সামির হোসেন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যানজটের ধকল ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় চন্দ্রা এসে পৌঁছাতে পেরেছেন। বাকি পথ পাড়ি দিতে আরও কত ঘণ্টা সময় লাগবে, তা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা সোহান ট্রাভেলসের চালক মুজাহিদ মিয়া জানান, বিকেলে রওনা হয়ে দীর্ঘ সময় পর তিনি চন্দ্রা পৌঁছাতে পেরেছেন। যানজটের তীব্রতার কারণে অনেক স্থানে দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকতে হয়েছে। সড়ক ফাঁকা থাকলে চালকদের জ্বালানি খরচ যেমন কমে, তেমনি যাত্রীদের ভোগান্তি থেকেও রেহাই দেওয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের সুপার রহমত উল্লাহ জানান, ঈদের শেষ মুহূর্তে এসে একসাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে মহাসড়কের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। তবে সকাল থেকেই হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সড়কে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর অঞ্চল ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে কয়েকশত দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য যানবাহন। এই বিশাল সংখ্যার কারণেই চন্দ্রা এলাকায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তবে যানজট নিরসনে পুলিশের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।