রেলসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
রেলসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
editor
প্রকাশিত আগস্ট ১, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রস্তাবিত সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ঢাকা-সিলেট রেল করিডরের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সফরকালে তিনি যাত্রীসেবার মান, স্টেশন অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং চলমান সমস্যাগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেসে করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান মন্ত্রী। সেখানে নেমে তিনি স্টেশনের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার, টয়লেট, বাথরুম এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন সুবিধা পরিদর্শন করেন। এ সময় স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দের কাছে স্টেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, রেলস্টেশন শুধু যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়, এটি রেলওয়ের সেবার মানের প্রতিচ্ছবি। তাই প্রতিটি স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
পরে সকাল ১১টার দিকে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে মন্ত্রী স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, যাত্রী বিশ্রামাগার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলে রেলসেবার উন্নয়ন এবং যাত্রীসুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এরপর কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সময় স্থানীয় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন অভিযোগ, পরামর্শ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। যাত্রীরা ট্রেনের সময়সূচি, স্টেশন সুবিধা বৃদ্ধি, টিকিটিং ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার রেলওয়েকে দেশের অন্যতম আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহনে রূপান্তর করতে কাজ করছে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-সিলেট রেলপথের উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। পর্যটনসমৃদ্ধ সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথ ও স্টেশনগুলোর বিদ্যমান অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা, ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়েও প্রাথমিক কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম পর্যটন করিডর হিসেবে সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।