পুলিশ বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা বাহিনী নেবে নাঃ আইজিপি
পুলিশ বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা বাহিনী নেবে নাঃ আইজিপি
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
Manual2 Ad Code
তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।
Manual7 Ad Code
আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।
এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’
Manual1 Ad Code
মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।
মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।
পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।
Manual1 Ad Code
তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে। সুএঃ যুগান্তর