সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে কর্মবিরতি করছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে দ্বিতীয় দফা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকরা।
Manual5 Ad Code
ওসমানী হাসপাতালের ৫ তলার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার জন্ম নেওয়া শিশুকে ভর্তি করিয়েছেন হবিগঞ্জের মো. রমজান মিয়া।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতে মারামারির পর থেকেই ডাক্তার পাচ্ছি না। আমার ছেলের জন্ডিস ধরা পড়েছে। ডাক্তার টেস্ট দিয়েছিল, কিন্তু গত দুইদিন ধরে রিপোর্ট দেখানোর জন্য কোনো ডাক্তারকে পাচ্ছি না। আমরা গরীব মানুষ কি করব।”
১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে পাঁচদিন ধরে স্ত্রীকে হাসপাতালে আছেন বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার জুনেদ আহমদ। কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনিও।
Manual6 Ad Code
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীর সিজার হয়ে ছেলে হয়েছে। গতকাল থেকে ডাক্তার পাচ্ছি না। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে আগের দেওয়া টিট্রমেন্টে। আজকে পর্যন্ত দেখি কি হয়।”
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, কর্মবিরতি
হাসপাতালের চার তলায় থাকা সৌরভ নামে এক রোগীর স্বজন বলছিলেন, “গতকাল থেকে ডাক্তার পাচ্ছি না। আমার রোগীর অপারেশন হওযার কথা ছিল, এজন্য টেস্ট দিয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট দেখানির জন্য কাউকে পাচ্ছি না। আমরা গরীব মানুষ কি আর করতে পারি বলেন।”
Manual7 Ad Code
শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।