নির্বাচনের আগে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
নির্বাচনের আগে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
২০২৫ সালে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে শুধু গত বছরই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একশোর বেশি। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ভোটের আগে এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর এক মাস না যেতেই ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সহযোদ্ধাদের প্রার্থণার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো একই কায়দায় চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও হত্যা করা হয়। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, তখন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভোট সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদনও আশাব্যঞ্জক নয়। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১০২ জন।
অন্যদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মিলিয়ে গত বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫৩টি বেশি।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। প্রতিটি ঘটনার প্রতিবেদন আমরা নিজেরাও পর্যালোচনা করি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখি, কোন ঘটনা কোন প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
Manual4 Ad Code
কেন এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়ছে এ প্রশ্নে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হত্যাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতাই অপরাধীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
Manual1 Ad Code
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা ব্যবস্থা নেবেন বা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন, তারাই যখন টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনাকে হালকাভাবে দেখেন, তখন অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ফলে তারা নানা উপায়ে আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।
অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন সাবেক ডিআইজি সাঈদ হাসান। তার মতে, নির্বাচন সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হবে।
Manual2 Ad Code
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান বলেন, কিছু দুর্বলতা অবশ্যই আছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়ম ও অপরাধের কারণে বাহিনীর ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার কতটা শত্রুতা বা ঝুঁকি রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে।
Manual8 Ad Code
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, নইলে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।