হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে যে ‘নাটক’ করে খুনিরা
হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে যে ‘নাটক’ করে খুনিরা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পরদিন তার বাসায় গিয়ে মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করেছে খুনিরা। এ সময় অপ্রতিমের মাকে সান্ত্বনা দেয় তারা। তবে সে সময় খুনিরা অপ্রতিমের মাকে আর কী বলেছিল- তা বিস্তারিত জানা যায়নি।
Manual1 Ad Code
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া যায়।
Manual5 Ad Code
মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।
Manual7 Ad Code
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।
Manual8 Ad Code
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকালেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।
নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।