এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন; বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারীরা
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন; বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারীরা
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual1 Ad Code
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে নারী, কন্যাশিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এটি মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীরা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত উল্লেখ করে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সংস্থাটির নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র সমন্বয়ক শুভজিৎ সাহা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম মনে করেন, নারীদের অবাধ চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করতে কিছু ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী তৎপর। এ কারণেই এসব সহিংসতা বেড়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে কট্টরপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকারের উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে সেগুলো বন্ধের দাবি জানানো হয়। এর পর থেকে নারী ও কন্যাশিশুরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।
Manual3 Ad Code
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর মাসে ২৭ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করে উন্মত্ত জনতা। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ সত্ত্বেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীরা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত। আসন্ন নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলামী তাদের ২৭৬ প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী নেই।
বাংলাদেশ সরকারের উচিত দেশের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। বিশেষ করে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা উচিত। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা পালন করা জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। এগুলো কোনো নতুন দাবি নয়।