দেশের একমাত্র প্রবালবেষ্টিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে টানা ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটকরা। এ কারণে দ্বীপটির একমাত্র হাসপাতালেও ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। অনেক রোগী হাসপাতালে গিয়েও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না দিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
এতে দ্বীপজুড়ে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্করা। সেই সঙ্গে হোটেল ও রিপোর্টগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটকরা আরো বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম জানান, প্রায় ৬ বছর আগে ব্লু মেরিন এনার্জি সোলার ও জেনারেটরচালিত একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৬৫ টাকা করে বিল আদায় করে আসছিল, যা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। অথচ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে আসছেন গ্রাহকরা। ওই স্বল্প সময়ের মধ্যেই পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা, মোবাইল চার্জসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয় দ্বীপবাসীকে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সীমিত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেও সাধারণ গ্রাহকদের ঘরবাড়ি থেকে মাসে ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আদায় করে প্রতিষ্ঠানটি।
হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ক্ষেত্রে এই বিল আরো বেশি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দ্বীপবাসী বাধ্য হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আসছে।
Manual4 Ad Code
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে অবস্থানরত পর্যটকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল ও রিসোর্টগুলোর কক্ষ অন্ধকারে রয়েছে, বন্ধ রয়েছে ফ্যান, ফ্রিজ ও পানির মোটর। অনেক জায়গায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
রাতে আলো না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পর্যটকরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বীপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হোটেল মালিকরা। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দ্বীপের বাসিন্দারা। এক পর্যায়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কয়েক শ গ্রাহক ব্লু মেরিন রিসোর্ট সংলগ্ন ব্লু মেরিন এনার্জির বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলছিল।
Manual8 Ad Code
দ্বীপের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
Manual1 Ad Code
এ বিষয়ে ব্লু মেরিন এনার্জির কর্মকর্তা মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাই কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, ব্লু মেরিন এনার্জির বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৭০ কিলোওয়াট। সাধারণত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও পর্যটন মৌসুমে ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই কেন্দ্র থেকে দ্বীপের প্রায় ১ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
দ্বীপবাসীর অভিযোগ, প্রতি ইউনিট ৬৫ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত প্রতিষ্ঠানটি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।