দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে রাজধানীর মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ২৯ নম্বর বাড়িটিকে ঘিরে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামে ইতোমধ্যে বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এই বাড়ি ঘিরে এত আলোচনা?
ব্রিটিশ আমলের স্থাপনা, ‘লাল বাড়ি’ নামের ইতিহাস
ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর নির্মিত দোতলা লাল রঙের ভবনটি ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতার পর এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত হয়। রাজনৈতিক পালাবদলের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী এই বাড়ি।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা এখানে ওঠেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বাসভবন থেকেই নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সে সময় বাড়িটি ছিল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর।
২৫ বছরের নীরবতা
২০০১ সালে খালেদা জিয়া বাসভবনটি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন এখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি। একাধিকবার বরাদ্দ চাওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বাড়িটি বরাদ্দ চাইলেও পাননি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদের পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আবেদনও গৃহীত হয়নি। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদের পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বরাদ্দ পেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার আর সেখানে ওঠা হয়নি।
Manual4 Ad Code
নতুন করে সংস্কার, নতুন করে আলোচনা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জোরেশোরে চলছে মেরামত ও সংস্কার কাজ। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ; রঙের ফিনিশিং ও বাহিরের অংশের কাজ চলছে। বসবাস উপযোগী করতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।
Manual8 Ad Code
যদিও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, দলটির আমির সেখানে উঠবেন কিনা। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বাড়িটি
Manual3 Ad Code
মিন্টো রোডের এই বাড়িটি শুধু একটি সরকারি বাসভবন নয়; এটি দেশের বিরোধী রাজনীতির প্রতীকী কেন্দ্র। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এই প্রাঙ্গণে।
এছাড়া বাড়িটির আশপাশেই রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইজিপি, বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, বিচারপতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার বাসভবন। ফলে নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকেও এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
দীর্ঘদিনের নীরবতার পর আবারও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সম্ভাবনায় ২৯ মিন্টো রোডের ‘লাল বাড়ি’ তাই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদলীয় নেতা সত্যিই কবে নাগাদ এই ঐতিহাসিক বাসভবনে উঠছেন।