আজ রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হচ্ছে নয় মাসের জন্য

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হচ্ছে নয় মাসের জন্য

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা নয় মাসের জন্য বন্ধ থাকছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হচ্ছে।

সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও এ বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান, আজ শেষবারের মতো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপে যাবে।

Manual3 Ad Code

রোববার ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। সরকার পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন বন্ধের সিদ্ধান্তে দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারেননি।

বেশির ভাগই এবার লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। পর্যটক বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক মাস মানুষের কষ্ট বাড়বে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ। সময়টা কিছুটা বাড়ানো গেলে স্থানীয়দের জন্য টিকে থাকা সহজ হতো।’

স্থানীয় রিকশাচালক করিম জানান, পর্যটক না থাকায় আবার মাছ ধরার কাজে ফিরতে হবে। রিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণ এখনো শোধ করতে পারেননি, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

Manual4 Ad Code

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজারো মানুষ জড়িত। মানবিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Manual7 Ad Code

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বীপে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ এবং পলিথিনসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

তথ্য সুএঃ বার্তা বাজার