Sharing is caring!

মোহাম্মদ আলী, পুঠিয়া(রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে (জিবিভি) উপজেলা পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কক্ষে শহীদ নাদের আলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লাইলা আখতার জাহান।
ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সাবির হোসেনের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ‘শিখা’ প্রকল্পের জেলা টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিতা সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিখা প্রকল্পের নির্ধারিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি লাইলা আখতার জাহান বলেন, “নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন হয়রানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, বুলিং এবং বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল পর্যায় থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবিষয়ে বড় ভুমিকা পালক করবে শিখা প্রকল্প। তাই আমরা তাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করবো।
‘শিখা’ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত চার বছর মেয়াদী একটি উদ্যোগ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। রাজশাহীসহ দেশের ছয়টি জেলা ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশালে এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, তৈরি পোশাক কারখানা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ উপলক্ষে পুঠিয়া উপজেলায় ৯ স্কুলসহ রাজশাহীতে ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সহায়তা কর্মসূচি চালানো হবে।
সভায় শিক্ষকমণ্ডলী, সাংবাদিক এবং ব্র্যাক প্রতিনিধিরা যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে আলোচনা করেন এবং একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
‘শিখা’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমাজে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা, আইনি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে বলে জানানো হয়।