আজ বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সড়ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত; মৌলভীবাজার-১আসনের মানুষ

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ণ
সড়ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত; মৌলভীবাজার-১আসনের মানুষ

Manual6 Ad Code

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই জনপদটি দীর্ঘকাল ধরে স্বাস্থ্য, সড়ক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদের ভোটারদের মধ্যে এবার পরিবর্তনের জোরালো প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, বড়লেখা ও জুড়ীতে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা স্বাস্থ্য খাতের। স্থানীয় বাসিন্দা গফুর সরদারের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো বর্তমানে ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের সিলেট রেফার করা হয়, যার ফলে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবার দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে সড়ক ব্যবস্থাও সংকটাপন্ন। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি সড়ক সংস্কার ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
মাধবকুন্ডু জলপ্রপাত, হাওর ও চোখজুড়ানো টিলা থাকলেও স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয় আরমান আলী। এছাড়া চা বাগান ও খাসিয়া পুঞ্জির শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানও অনুন্নত। চা শ্রমিক রবী দাসের অভিযোগ, অনেক বাগানে এখনো ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস ও সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

Manual2 Ad Code

মৌলভীবাজার-১আসনে বড়লেখা পৌরসভা এবং দুই উপজেলার মোট ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ এবং মহিলা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৬ জন। নির্বাচনে ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগের শাহাব উদ্দিন ও বিএনপি’র এবাদুর রহমান চৌধুরীর মধ্যে ক্ষমতার রদবদল হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চার মেয়াদে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।

এবারের নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মো. আব্দুন নুর, গণফ্রণ্টের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ। তবে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বড়লেখা-জুড়ীর সব সমস্যার সমাধানে কাজ করব।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটাররা পরিবর্তন চান। নির্বাচিত হলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ নাগরিক সব সমস্যার দ্রুত সমাধানে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’

 

Manual1 Ad Code