আজ শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ণ
টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি

টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি

Manual3 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় লাঠি হাতে এক নারীর দিকে তেড়ে আসা তরুণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই তরুণের নাম মো. রাকিব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি গাজীপুরের একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।

মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সহপাঠীরা তাঁকে আহমেদ রাকিব নামে চেনেন। একই হত্যা মামলায় রাকিবের যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি। মামলাটি দায়েরের পর থেকে তাঁরা পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় তাঁদের দেখা যাচ্ছে।

Manual2 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই নারীকে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে একজনের দিকে লাঠি হাতে তেড়ে গিয়েছিলেন রাকিব। ভুক্তভোগী ওই নারীকে কাঁদতে কাঁদতে বিচারের দাবি জানাতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই নারী বলেন, পুরান ঢাকায় সাহ্‌রির খাবার খেয়ে টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোররাতের এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Manual1 Ad Code

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেন নামের এক তরুণকে কুপিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি রাকিব ও তাঁর যমজ ভাই সাকিব।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে তাঁরা দুই ভাই রাকিব ও সাকিবদের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর ওই দুই কিশোর ফিরে আসে এবং ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখে। ওই ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁরা দুই ভাই এলাকাছাড়া।

Manual2 Ad Code

মামলার বাদী মহিউদ্দিন আবির প্রথম আলোকে বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরবর্তী সময় মামলাটি চলে যায় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে, যা পরবর্তী সময় তাঁরা জানতে পারেন। গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে অভিযোগপত্র দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। আসামিদের বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। এসব তথ্য পুলিশকে জানালেও তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে কোনো তৎপরতাই দেখাচ্ছে না।

মহিউদ্দিন আবির আরও বলেন, এর আগে ডাকসুর নির্বাচনের সময় রাকিবকে ক্যাম্পাসে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রচার–প্রচারণায় দেখা গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি জায়গায় তাঁকে দেখা গেছে।

Manual8 Ad Code

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ, তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করার দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে যদি ওয়ারেন্ট ইস্যু (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) হয়, তবে তাঁকে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, দেশের নানা পরিস্থিতিতে আসামি গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়নি। তবে এখন আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে।