বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এবার পুরোপুরি অনলাইন নির্ভরতা নয়, বরং অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের সমন্বয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
Manual5 Ad Code
ব্লেন্ডেড লার্নিং বলতে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান এবং ডিজিটাল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার সমন্বয়কে বোঝায়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে এবং বাকি সময় অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করবে।
সভায় প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস ভাগ করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,
Manual6 Ad Code
এই পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আরও সমন্বিত পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার চিন্তা করছে সরকার।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ‘এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই আমরা ভাবছি অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা যায় কি না। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’
Manual6 Ad Code
তিনি আরও জানান, একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন হলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম জানান, সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিক্ষকরা এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।