কুষ্টিয়ায় বেসরকারী হাসপাতালে শিশুর মৃতু, পুলিশি হেফাজতে দুই চিকিৎসক
কুষ্টিয়ায় বেসরকারী হাসপাতালে শিশুর মৃতু, পুলিশি হেফাজতে দুই চিকিৎসক
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
শরিফুল হক পপি, কুষ্টিয়া
Manual3 Ad Code
কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহরর মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। হাতের অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়। এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচুরে অংশ নেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। পরে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
Manual1 Ad Code
শিশুটির খালু আতিয়ার রহমান বলেন, “অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এর কঠিন বিচার চাই।”
Manual8 Ad Code
ঘটনার রাতে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, “তাসনিয়ার শারীরিক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ঠিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে। হয়তো হার্ট অ্যাটাকের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।”
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, “এটাকে আমরা হাইপার সেনসিটিভ কেস বলে থাকি, যেটা সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।”
একতা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, “শিশুটিকে অজ্ঞান করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিস্ট বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে বা কতটুকু প্রয়োগ হয়েছে, সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।”
Manual5 Ad Code
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। রাতেই দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশের কাছে পরিবারের সদস্যরা না থাকায় এখনও সুরতহাল প্রতিবেদন করা সম্ভব হয়নি।”