কুষ্টিয়ার ভেড়ামার উপজেলায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার ফলে আতঙ্কে রয়েছে নদীপাড়ের মানুষ। বিরাজ করছে গভীর আতঙ্ক আর উদ্বেগ। হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের বসতভিটা। ভাঙনকবলিত এলাকা উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার।
এরই মধ্যে অনেকে শেষ সম্বলটুকু টিকিয়ে রাখতে নিজ উদ্যোগেই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
নদী ভাঙনে ভিটে হারানো আফতাবুল সরদার বলেন, “আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু পদ্মায় বিলীন হয়েছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকু ও শেষ হয়ে যাবে।”
ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন জানান, স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারেন না তারা।
Manual6 Ad Code
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেন, “বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পেছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে।”
Manual5 Ad Code
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, “কয়েক বছর ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোনো ক্রমে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।”
Manual6 Ad Code
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, “এ অঞ্চলটি ইতোপূর্বেও ভাঙনের শিকার হয়েছিল। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটা পাস হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।”
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, “ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ জানাব।”