পনেরো দিন আগে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল (এমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সেই একই পুকুরে প্রাণ গেল আরো দুই শিক্ষার্থীর।
Manual6 Ad Code
তাদের একজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চমক দত্ত। অন্যজন একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শান্ত দেব। তাদের দুজনের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।
জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
Manual1 Ad Code
ছবি অর্ণব সাহা
Manual8 Ad Code
সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর একটা ৫ মিনিটের দিকে শান্ত ও চমকসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান শান্ত ও চমক। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সঙ্গে থাকা অন্য সহপাঠীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারে পুকুরে নামেন। প্রায় ১০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে খুঁজে পেতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।
পুকুর থেকে উদ্ধারের পর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত তাদের চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে যন্ত্রকৌশল (এমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা মারা যান। সেই শোক কাটতে না কাটতেই মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আবার দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, একই পুকুরে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটির পানি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ তাদের নিজ গ্রাম মৌলভীবাজারে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সঙ্গী হতে পারবেন।সুএ:কালের কণ্ঠ