নোয়াখালীতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়
নোয়াখালীতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual3 Ad Code
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি ব্রেকারে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩৩ কেভি লাইনের ব্রেকারে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে চৌমুহনী থেকে মাইজদীগামী ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জেলা শহর মাইজদী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ–বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
Manual6 Ad Code
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩৩ কেভি লাইনের ব্রেকারে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণে ব্রেকারের পাশাপাশি দুটি ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সাময়িকভাবে জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
Manual1 Ad Code
এদিকে এ ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার মেরামত ও নতুন ব্রেকার সংগ্রহের কাজ শুরু করে পিডিবির কারিগরি দল। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দত্তেরহাট সাবস্টেশন থেকে প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করে তারা। তবে এই ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে শহরের অর্ধেক চাহিদাও মিটছে না।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট হয়। সেখানে গতকাল রাতে মাত্র ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে (রোটেশন ভিত্তিতে) বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শহরের এক অংশে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে অন্য অংশে তা বন্ধ থাকবে। পরের ঘণ্টায় সরবরাহের এলাকা পরিবর্তন করা হবে।
শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে সারা রাত ও আজ সকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। বিদ্যুতের সংকটের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার বলেন, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে।
তবে স্থায়ী মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক এই বিদ্যুৎ–বিভ্রাট থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।