হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা
হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual5 Ad Code
ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতায় বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। রোববার সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় কিছু কারণবশত পিছিয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে এক চিঠিতে জানিয়েছে।
Manual4 Ad Code
এদিকে হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ওপর একটা মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা, হিলি ও আশপাশের এলাকায় অনেক পচনশীল দ্রব্য উভয় পাশের বর্ডারে ট্রাকবোঝাই অবস্থায় রয়েছে। সেটি যদি যথাসময়ে হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ না করে, তাহলে সেসব পণ্য পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ইতিমধ্যে এলসির মাধ্যমে সেসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেছেন ব্যবসায়ীরা— তা নিয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাশাপাশি বন্দরের শত শত শ্রমিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর এটা দীর্ঘমেয়াদী হলে তা বাংলাদেশি বাজারের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
গত শনিবার (২৯ আগষ্ট) রাতে ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মন্ডল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে এ বিষয়টি জানানো হয়।
Manual1 Ad Code
বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল জানান, ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক চিঠির মাধ্যমে আমরা তাদের এ সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছি।
চিঠিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় বিভিন্ন কারণে হিলি বন্দর পিছিয়ে পড়েছে। ভারত থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্য স্থলবন্দরগুলোর তুলনায় এখানে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে, ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে গেছে। এই সমস্যার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় এক্সপোর্টার্স ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল আরও জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কিছু সমস্যার কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই আমরা মনে করি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
Manual6 Ad Code
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক রেজা আহমেদ বিপুল বলেন, ‘হঠাৎ করে জানতে পারি আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এ অবস্থায় আমাদের দেশে আমদানিকারকদের ওপর একটা মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমাদের অনেক পচনশীল দ্রব্য ওপারে ট্রাক বোঝাই রয়েছে। সেটা হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করতে না পারলে আমদানিকারকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি বন্দরের শত শত শ্রমিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটা দীর্ঘমেয়াদী হলে বাজারের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি মো. জাকারিয়া জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম যাত্রী পারাপার হতে পারে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন পারাপারে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’তথ্য সুএঃ মানবজমিন