মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি চাঁদের হাসি হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডা. সোলাইমান মিয়াকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করেন। পরবর্তীতে ডা. সোলাইমানের কথামতো তার চেম্বারে গেলে, তিনি অবহেলাবশত একটি সাদা কাগজে প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ লিখে দিয়ে তাকে হাসপাতালের অবজারভেশন রুমে (মুক্তিযোদ্ধা ভবন) অপেক্ষা করতে বলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসকের কথামতো রোগীর স্বজনরা ১১২ নম্বর রুমে যান। সেখানে অপর আসামি মেডিকেল সহকারী আল আমিন আসেন এবং সাদা কাগজের প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে ওষুধ আনতে বলেন। স্বজনরা ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে টেবিলের ওপর রাখলে, সে সময় রোগী চেয়ারে বসে অক্সিজেন নিচ্ছিলেন। ওষুধগুলো দেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনটি পুশ করার আগে ফেনাড়গন ইনজেকশন দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু আসামি আল-আমিন তা কোনো তোয়াক্কা না করে পাশের রুম থেকে সিরিঞ্জ ভর্তি করে এনে জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ সময় স্বজনরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ধমক দেন।
চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে মেডিকেল সহকারী আল আমিনের বিরুদ্ধে মেডিকেল ইথিক্স এবং প্রফেশনাল মিসকনডাক্টের (পেশাগত অসদাচরণ) সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদের হাসি হাসপাতালের এই চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও নিরীহ রোগীদের অবহেলার মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে নবজাতকের মৃত্যুসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অন্যান্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে ভুল ও অবহেলাজনিত চিকিৎসায় হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহল।