যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ সোমবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হবে কদরের মহিমান্বিত রজনী। এই রাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করা হয়।
পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের আবহে সারা দেশে শুরু হবে এ বরকতময় রজনী উদ্যাপন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের সঁপে দেবেন মাবুদের দরবারে। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ মহিমান্বিত রাতের জন্য। এটি এমন এক পবিত্র রজনী, যার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ এ আয়াতে স্পষ্ট যে, এ রাতের ইবাদত প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব বয়ে আনে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ পবিত্র রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দরজা খুলে দেন। সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের আহ্বান জানানো হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে। তবে আলেমদের অভিমত ও দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী, ২৬ রমজানের দিবাগত রাতটিই (আজ ১৬ মার্চ, সোমবার) শবে কদর হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই মহিমান্বিত দিন উপলক্ষে আগামীকাল ২৭ রমজান, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) সরকারি ছুটি।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও শবে কদরের অর্থ
Manual2 Ad Code
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বোঝাতে নবীজি (সা.) সাহাবিদের বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেছিলেন, যিনি এক হাজার মাস ইবাদত করেছিলেন। সাহাবিদের কম আয়ুর কথা চিন্তা করে আল্লাহ এই উম্মতকে অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবে এই রাত দান করেন। ‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি; ‘শব’ মানে রাত এবং ‘কদর’ মানে সম্মান বা ভাগ্য। অর্থাৎ এটি মূলত ভাগ্যরজনী বা মর্যাদার রাত। এ রাতে মানুষের ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে শান্তিময় বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
Manual8 Ad Code
দেশজুড়ে বিশেষ আয়োজন ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’ তিনি দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও শান্তির জন্য দোয়া করেন।
Manual2 Ad Code
আজকের এই পবিত্র রাতে সারা দেশের মসজিদগুলোতে তারাবিহর নামাজে কোরআন খতম সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কদরের ফজিলত তুলে ধরবেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করবেন।