আজ রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ আহত ৮

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ আহত ৮

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানা ভবনে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ওসি ও ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি থানার বাইরে গিয়ে তার সমর্থকদের ডেকে আনে। এরপর ৮–১০ জনের একটি দল থানায় ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসি, এএসআইসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

আহতদের মধ্যে এএসআই রুহুল আমিন, রাসেল, ছানোয়ারসহ ৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, “রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩–৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম রশীদুল বারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Manual2 Ad Code

ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারী বলেন, রাতে যুব জামায়াতের নেতা পলাশের নেতৃত্বে ৮–১০ জন থানায় এসে এই হামলা চালায়।

তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের কারণে পলাশ থানায় এসে ওসিকে দোকানে তালা দিতে চাপ দেন এবং চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। এতে আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয় এবং একপর্যায়ে ওসির ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।

Manual3 Ad Code

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশবাড়ী থানার ওসি মো. সরোয়ার আলম খান বলেন, “রাতে কিছু লোক লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসে। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা চাপ সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, যা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে আমিসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হই।”

তিনি আরও জানান, “ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে তাদের দুইজন আহত হয়েছেন। যুব জামায়াতের নেতা পলাশ বলেন, “পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।”

Manual1 Ad Code

 

Manual2 Ad Code