জুলাই আদেশ’ কোনো আইন নয়, এটি সংবিধানের ওপর প্রতারণা : আইনমন্ত্রী
জুলাই আদেশ’ কোনো আইন নয়, এটি সংবিধানের ওপর প্রতারণা : আইনমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual5 Ad Code
তথাকথিত ‘জুলাই আদেশ’-কে আইনি ভিত্তিহীন ও ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ অভিহিত করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি মূলত সংবিধানের ওপর একটি প্রতারণা (ফ্রড অন দ্যা কন্সটিটিউশন)।
Manual6 Ad Code
তিনি স্পষ্ট করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানই আমাদের ভিত্তি এবং এই সার্বভৌম সংসদকে কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে বাধ্য করা যাবে না।
Manual6 Ad Code
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা বলছেন ৭২-এর সংবিধান মানেন না, অথচ এই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন ওই সংবিধানের আলোকেই। জুলাই আদেশের ১২ ধারাতেই বলা আছে জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা। তার মানে ৭২-এর সংবিধানই আমাদের বেসিস। এই সংবিধানকে সামনে রেখেই আমরা যাবতীয় সংশোধনী আনতে পারব।
Manual4 Ad Code
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা জুলাই বিপ্লবীদের মতো আবেগি এবং জন-আকাঙ্ক্ষার কথা চিন্তা করি। জুলাই সনদের ২২ অনুচ্ছেদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীর কথা বলা আছে। বিএনপি তা পালন করেছে, কিন্তু আপনারা জুলাই সনদের কথা মুখে বললেও নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেননি। এমনকি সনদের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপনাদের ডেপুটি স্পিকার পদের অফার দেওয়া হলেও আপনারা তা গ্রহণ করেননি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ৯১ সালে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র এনেছিলেন বলেই আজকে আপনারা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা যেমন আসাদ-বাচ্চুর কাছে ঋণী, তেমনি আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম ও ৩ হাজার পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের কাছেও ঋণী।
‘জুলাই আদেশ’ কেন আইন নয় তার ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো অর্ডারের আইনি ব্যাকিং থাকতে হয়। এই আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এটি একটি কালারেবল লেজিসলেশন। সংবিধানে যে পাওয়ার দেওয়া নাই, সেই পাওয়ার এখানে এক্সারসাইজ করা হয়েছে। চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। বিরোধী দলের ‘৫০-৫০’ সদস্য দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২১৯ জন এমপির প্রতিনিধিরা ৫০ শতাংশ আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা ৫০ শতাংশ পাবেন– এটা বৈষম্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক, যেখানে আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে জুলাই সনদের পথ ধরে এমন একটি সংশোধনী আনব যা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে নলে জানান আইনমন্ত্রী।সুএঃ ঢাকা পোস্ট