যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেলে সবার ক্ষতি: শামা ওবায়েদ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেলে সবার ক্ষতি: শামা ওবায়েদ
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধানে না পৌঁছালেও দুই পক্ষের আলোচনার টেবিলে বসাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা বলছে, এ ধরনের আলোচনা ব্যর্থ হলে বৈশ্বিকভাবে প্রতিটি দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
Manual8 Ad Code
রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
Manual2 Ad Code
তিনি বলেন, আমরা চাই আলোচনা আরও বেগবান হোক এবং এখান থেকে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসুক। যদি তা না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিটি দেশই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা আমরা কোনোভাবেই চাই না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব সময়ই আমরা বলে আসছি, যে কোনো মূল্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং নেগোসিয়েশন ও ডায়ালগের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এই যুদ্ধাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি।
Manual7 Ad Code
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখি, কারণ তারা অন্তত আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত নিরসনের পথে এগোতে চায়। বাংলাদেশ সরকারও এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
তবে প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমাধান না আসা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আলোচনা এখনো চলমান। এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আমরা চাই সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাক।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, একজনকে বিদেশে দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, লেবাননে নিহত একজন নারী কর্মীর মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরাসরি ফ্লাইট ও পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত থাকায় এতে সময় লাগছে। লেবাননে বাংলাদেশের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, লেবাননে আমাদের মিশনের কর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক নিরাপদে আছেন।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।