আজ বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরের

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ
ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরের

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual5 Ad Code

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করা হয়। নির্বাচিত বিএনপি সরকার আসার পরই সেই পোশাক ফের বদলানোর বিষয়টি সামনে আনে পুলিশ কর্মকর্তারাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে রঙ নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সকল ইউনিটের মতামতক্রমে পুলিশের ইউনিফর্ম সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্ষেত্রে শার্টের রং Light Olive TC (Plain Fabric) ও এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি, র‍্যাব ব্যতীত অন্যান্য সকল পুলিশের ক্ষেত্রে শার্টের রং Deep Blue TC (Plain Fabric) এবং উভয় ক্ষেত্রে প্যান্টের রং TC Twill Khaki নির্ধারণ করেন।

সেই প্রস্তাবনাটি কার্যকর করার জন্য Police Dress Rules, 2025 এর বিধি সংশোধনের নিমিত্তে অনুমোদন প্রয়োজন। পোশাক পরিবর্তনে বিধি সংশোধন কিংবা সংযোজন চেয়ে গত ১৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সেই চিঠিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস্ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান। চিঠিতে রং পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরির্তন করা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব।

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, S.R.O No. 109-Law/2025, Date. 08-01-1432/21-04-2025 মূলে পুলিশের বিদ্যমান পোশাকের রং শার্ট Deep Grey TC (Plain Fabric) ও প্যান্ট Dark Blue TC Drill এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্ট Light Olive TC (Plain Fabric) ও প্যান্ট Dark Blue TC Drill পরিবর্তন করে নতুন রঙের পোশাক শার্ট Iron TC (Plain Fabric) ও প্যান্ট Coffee (Shale) TC Twill Fabric প্রবর্তন করায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের নমুনা ও কালার বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পর্যালোচনা করে কয়েকটি নমুনা নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে শার্ট ও প্যান্টের কালার প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতক্রমে পুলিশের ইউনিফর্ম সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্ষেত্রে শার্টের রং Light Olive TC (Plain Fabric) ও এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি, র‍্যাব ব্যতীত অন্যান্য সকল পুলিশের ক্ষেত্রে শার্টের রং Deep Blue TC (Plain Fabric) এবং উভয় ক্ষেত্রে প্যান্টের রং TC Twill Khaki নির্ধারণ করেন। উক্ত প্রস্তাবনাটি কার্যকর করার জন্য Police Dress Rules, 2025 এর নিম্নোক্ত বিধি সংশোধনের নিমিত্তে অনুমোদন প্রয়োজন।

Police Dress Rules, 2025 এর Rule 4 এর sub-rule (5) (6) (7) (8); Rule 7 এর sub-rule (2) এর (a) (c) এবং Rule 7 এর sub-rule (3) এর (a) (i) (ii) (b) (i) (ii) সংশোধিত হবে।

চিঠির সঙ্গে পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন অথবা সংযোজনপূর্বক প্রজ্ঞাপন জারি সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রজ্ঞাপন সংযুক্ত করা হয়।

চিঠিতে পুলিশের পক্ষে থেকে উল্লেখ করা হয়, প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয় বিধায় বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মের রং পরিবর্তনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সংশ্লেষ নেই। এমতাবস্থায়, চিঠির সঙ্গে পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন অথবা সংযোজনপূর্বক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

Manual6 Ad Code

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের জন্য ‘পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫’ সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, পরিবর্তিত পোশাক নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নতুন পোশাকের দাবির বিষয়টি আমলে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নমুনা ও কালার বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পর্যালোচনা করে কয়েকটি নমুনা নির্ধারণ করা হয়। সেটি বাস্তাবায়নে বিধি সংশোধন প্রয়োজন। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিধি সংশোধনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কবে নাগাদ পোশাক পরিবর্তন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। বিধি সংশোধণের পর এটা দ্রুতই করা যাবে।

Manual1 Ad Code

অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম পুলিশ সপ্তাহের আগেই পোশাক বদলানো নিশ্চিত করতে। মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বিধি সংশোধন হয়ে গেছে। এটা দ্রুতই কার্যকর করা সম্ভব। কারণ, প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সরবরাহ করে থাকে পুলিশ। সুতরাং পুলিশের ইউনিফর্মের রং পরিবর্তনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক খরচের চাপ থাকছে না। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত।

Manual7 Ad Code

এখানে উল্লেখ্য যে, বদলে যাওয়া পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যের অস্বস্তির বিষয়টি নতুনভাবে সামনে আসে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই। চাউর করা হয় যে, নতুন পোশাকের পরিবর্তন চাচ্ছেন তারা। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তারা পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান।

বর্তমান পোশাকের রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। এতে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য অস্বস্তি বোধ করছেন বলেও প্রচার পায়।

এরমধ্যেই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পুলিশের এ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং তারা বর্তমানে পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তবর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনরূপ জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়া পোশাক নির্বাচন করেন। অন্য যে সকল সংস্থা ইউনিফরম পরে থাকেন তাদের সঙ্গে হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাকটি ছিল তা ২০০৩-২০০৪ সালের তৎকালীন সরকার একটি গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে বাংলাদেশের পুলিশের চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের গায়ের রং, আবহাওয়া, রাত্রি ও দিনের ডিউটিতে সহসাই চিহ্নিত করা যায় এবং অন্য যেকোনো বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয়, এসব বিষয় বিবেচনা করেই নির্ধারণ করেছিল।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নতুন পোশাক তৈরির পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। পোশাকের রঙ বা নকশা নয় বরং পুলিশ সদস্যদের মন মানসিকতার পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করে তা আরও অধিক গবেষণা ও জনমত যাচাইকল্পে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ ও বাস্তবসম্মত দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সেসময় জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান বলেছিলেন, পোশাক বদলের বিষয়টি বিবেচনা করতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব। এর আগে যে পোশাক আমরা পরতাম, সেটিতে ফেরত যেতে পারি। এছাড়া কর্তৃপক্ষ চাইলে সবার মতামতের ভিত্তিতে অন্য কোনো পোশাক দিতে পারে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়শন থেকে আমরা পোশাক বদলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে সোচ্চার থাকব।

এখানে উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়ন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশকে ট্রমা কাটিয়ে কর্মচাঞ্চল্যে ফেরাতে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ, র‍্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে এই তিন বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক ঠিক করা হয়। তখন সমালোচনা হলে র‍্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাকে আর পরিবর্তন আনা হয়নি।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরিধান শুরু করে পুলিশ। পুলিশের পোশাক নির্ধারণ হয় লৌহ (আয়রন) রঙের। র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের। আর আনসারের পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের বছরে পাঁচ ‘সেট’ পোশাক দেওয়া হয় সরকারিভাবে। প্রায় ২১ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারে সময় পোশাকে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে ২০০৪ সালে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল। সরকার এবার পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো বিধি সংশোধনে রাজি হলে আবারও বদলে যাবে পুলিশের পোশাক।তথ্য সুএঃ বাংলাদেশ টাইমস