চূড়ান্ত সক্ষমতায় রূপপুর থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে?
চূড়ান্ত সক্ষমতায় রূপপুর থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে?
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual5 Ad Code
দীর্ঘ এক দশকের নিরলস প্রচেষ্টা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জটিল কারিগরি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত যুগে প্রবেশ করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে এই জ্বালানি প্রবেশের আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স বা কমিশনিং অনুমোদনের পর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বের অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করল বাংলাদেশ।
Manual7 Ad Code
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন ও নিরাপত্তার কঠোর নিয়মাবলি অনুসরণ করতে গিয়ে ইতিপূর্বে কয়েকবার এই জ্বালানি লোডিংয়ের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারিগরি ও নিরাপত্তাজনিত নানা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন সেসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রথম ইউনিটটি জ্বালানি গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ বিশেষ অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন, যারা সরাসরি এই জ্বালানি লোডিং ও কেন্দ্র পরিচালনার কারিগরি প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সময়সীমা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই এই ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
Manual7 Ad Code
তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য দেশবাসীকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তখন প্রথম ইউনিট থেকেই এককভাবে ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
Manual4 Ad Code
বিশাল বাজেটের এই মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ মডেলের দুটি রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, যখন দুটি ইউনিটই পূর্ণ দমে উৎপাদনে যাবে, তখন সেখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বিশেষ বিমানে করে ঢাকা পৌঁছান। তিনি রাজধানী নেমেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারযোগে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের সূচনা করেন।