পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে প্রবেশের সময় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি পাওয়ার কার ও একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-উত্তরাঞ্চল রেল যোগাযোগ। প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন রেড টাইমস নিউজ কে জানান, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে প্রবেশের সময় লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, লাইনচ্যুত হওয়ার কিছু সময় পর ট্রেনটির একটি পাওয়ার কার ও ক্ষতিগ্রস্ত বগি আলাদা করে বাকি অংশ পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ট্রেনকে বিকল্প রুট ব্যবহার করে গন্তব্যের দিকে পাঠানো হয়।
ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল আলিম বলেন, উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হলেও দুর্ঘটনায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই লাইনে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ঈশ্বরদী স্টেশন হয়ে বিকল্প লাইনে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করায় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা-উত্তরাঞ্চল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ চলমান রয়েছে এবং রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ থাকবে বলে জানা গেছে।
মোসা. হাসিনা খাতুন বলেন, যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও লাইনচ্যুতির ঘটনায় সাময়িকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও বিকল্প ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।