আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

editor
প্রকাশিত মে ২৮, ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ণ
কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তীব্র প্রতিশোধ নিতে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ‘আইআরজিসি’।

Manual5 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসির বরাতে আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ‘গ্রিনিচ মান সময় ১টা ২০ মিনিট’ কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বাহিনী আকাশপথে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেছে, এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি মারাত্মক ও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে শত্রু পক্ষ যেন বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন আর কখনো অনুত্তরিত বা বিনা জবাবে পার পাবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে। তবে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এর আগে ওয়াশিংটনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির কাছে হুমকি সৃষ্টি করায় মার্কিন বাহিনী ইরানের চারটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাসে অবস্থিত ইরানের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন বা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে, যা মূলত একটি পঞ্চম ড্রোন উৎক্ষেপণের শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো ছিল সম্পূর্ণ পরিমিত এবং একটি আত্মরক্ষামূলক প্রচেষ্টা, যা মূলত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ‘সেন্টকম’ দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় থাকা ইরানি স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে আরও এক দফা বিমান হামলা চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছিল। ইরান তখন সেই হামলাকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির একটি গুরুতর ও নগ্ন লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

Manual3 Ad Code

এর মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানার চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি এই আলোচনার অগ্রগতিতে এখনো সন্তুষ্ট নন এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মার্কিন বাহিনীকে এই কাজ পুরোপুরি শেষ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানি ভূখণ্ডে আকস্মিক ও বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

এর জবাবে তেহরানও অঞ্চল জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একযোগে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

Manual8 Ad Code

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

 

Manual2 Ad Code