আজ মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

editor
প্রকাশিত জুন ২৬, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual8 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান রুমীকে হারিয়ে ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় সংগ্রামে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আপসহীন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। আজ (২৬ জুন) এই মহান ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন এবং দেশপ্রেমের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি নাম জাহানারা ইমাম। শহীদ সন্তান রুমীকে হারিয়ে তিনি শুধু একজন মায়ের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং হয়ে উঠেছিলেন পুরো জাতির ‘শহীদ জননী’।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘জুড়ূ’। বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা ছিলেন সৈয়দা হামিদা বেগম।

Manual4 Ad Code

বাবার চাকরির সুবাদে তিনি তৎকালীন পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে ১৯৬৫ সালে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষকতাই ছিল তার কর্মজীবনের শুরু। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আবারও শিক্ষকতায় যোগ দেন। এছাড়া কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনে নিয়ে আসে গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি। বড় ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামী শরিফ ইমামও চিকিৎসার অভাবে মারা যান। স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন। এরপর থেকেই তিনি পরিচিতি পান ‘শহীদ জননী’ হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের দিনলিপিতে প্রতিদিনের ঘটনা, ভয়, শোক, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন লিপিবদ্ধ করেছিলেন তিনি। সেই লেখাগুলো পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতরে আগুন’, ‘নাটকের অবসান’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস’ এবং ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

Manual5 Ad Code

স্বাধীনতার পর দেশে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা ইমাম সরাসরি আন্দোলনে নামেন। ১৯৯২ সালে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহ্বায়ক হন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করে।

Manual4 Ad Code

জীবনের শেষদিকে দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হন জাহানারা ইমাম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।